Category: পূর্ণা মুখোপাধ্যায়

“জাগরী” ও তার লেখক
কিন্তু ফাঁসির আগের আশংকায় ভরা রাতটি চারজনের কেমন কেটেছিল তা সহজেই অনুমেয়। অন্তরঙ্গ আত্মীয়তায় আবদ্ধ কিন্তু নিঃসঙ্গ চারজন মানুষ সেই রাত্রির দুঃসহ অন্ধকার থেকে ফিরে তাকায় তাদের অতীতের দিকে। যে অতীত ক্ষমাহীন বর্তমানের কাছে কত স্নিগ্ধ ও সান্ত্বনাময়। একটি রাতের কালো কষ্টিপাথরে তাদের সমগ্র জীবনকে বিচার করে তারা ।

প্রাণধারা
অমলের করুণ মুখ আরো বেশি শুকনো দেখায়।পাঁচমুড়া পাহাড়ের ঠিকানা সে কবেই গেছে জেনে;প্রেমহীন মানুষের অত্যাচারেকত যে শামলী নদী শুকিয়েছে এক শতাব্দীতে।সুধাও আসে না নিয়ে কুসুমের সাজিখানি তার। অরণ্যের শ্যামছায়া সরে গেছে আরো কত দূরে।অনাবৃত পথেঘাটেপথ হাঁটে যেই সব অসংখ্য মানুষঅশান্ত ও যান্ত্রিক- তাদের এখনবিরহমিলন নেই, সুখদুঃখ স্পষ্ট নয় আর।অভাবিত বিলাস ও বাসনার পাশে –স্থবির মাছিরা…

সত্যজিতের মননে রবীন্দ্রনাথ
দুজনেই বৈশাখের জাতক I যদিও রবীন্দ্রনাথের অচিন্তনীয় প্রতিভার সঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের রসসৃষ্টির অসাধারণত্ব ও স্বকীয়তা কোনোভাবেই তুলনীয় নয়, তবুও দুজনেই ছিলেন তাঁদের সমকালে বাংলার সাংস্কৃতিক জগতের শীর্ষে। এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁদের খ্যাতি ও পরিচিতির মধ্যে সাদৃশ্যও চোখে পড়ার মতো। ১৯৫৫ সালে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার চোদ্দ বছর আগে চলে গেছেন রবীন্দ্রনাথ। শান্তিনিকেতন কলাভবনের…

“সিন্ধু পারের পাখি”: পণ্ডিচেরি
সম্প্রতি পণ্ডিচেরি গিয়েছিলাম। বছর শেষের ছুটির আমেজে কলকাতার বাইরে গিয়ে কদিন কাটিয়ে আসার ইচ্ছে তো ছিলই। তাছাড়াও ছিল আমার সতেরো বছর বয়সে দেখা সমুদ্রতীরবর্তী শহরটিতে আরেকবার ফেরার আকাঙ্ক্ষা। ফরাসি উপনিবেশ হিসেবে পণ্ডিচেরি শহরের স্থাপন হয়েছিল ১৬৭৩ সালে । কিন্তু বাঙালিদের সঙ্গে এখানকার বিশেষ যোগসূত্রের কারণ নিশ্চয়ই শ্রী অরবিন্দ ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত আশ্রম । অগ্নিযুগের তেজোদ্দীপ্ত…

বিভূতিভূষণ- রেখে যাওয়া সূত্রের খোঁজে
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম দুটি উপন্যাস প্রকাশিত হবার পর থেকেই তিনি বাঙালি পাঠকের চোখে প্রকাশিত হয়েছিলেন এক বিশেষ ভাবমূর্তিতে । গ্রামীণ প্রকৃতির নির্জন নিভৃত সৌন্দর্যের, সামান্যতম মানুষের সুখদুঃখের তিনি মহাপ্রতিভাবান ভাষ্যকার, অন্যদিকে লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্রলোকের প্রতি তাঁর বিস্ময় ও আগ্রহ অপরিসীম। কিন্তু এই দুই জগতের মধ্যবর্তী যে কঠোর পৃথিবী- যেখানে মানুষের নানা সামাজিক সমস্যা ও…

পাহাড়ের দিনলিপি
গত ১৫ ই জুন ছিল আমাদের কলকাতা থেকে কালিম্পং রওনা হবার দিন। তার কিছু আগে থেকেই শুনছি উত্তর বঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা। কলকাতা আর দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যখন বহুকাল বৃষ্টির দেখা নেই, উত্তর বাংলা তখন ভেসে যাচ্ছে অবিরল ধারাবর্ষণে। অতএব যাত্রাপথে বাধাবিঘ্নের আশঙ্কা যথেষ্ট ছিল, কিন্তু সেরকম কোন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। তিস্তাবাজারে পৌঁছেই…

এই সময়ে রবীন্দ্রনাথ
সুশোভন সরকার তাঁর এক মনোগ্রাহী স্মৃতিচারণে লিখেছিলেন – “ইতিমধ্যে আমি বার বার শান্তিনিকেতনে যেতে আরম্ভ করি। সেখানে তখন বাড়িতে বাড়িতে, রাস্তাঘাটে রবীন্দ্রসংগীত ধ্বনিত হচ্ছে। সেই সংগীতরসে আমার মন ডুবে যেত।” পুরনো দিনের শান্তিনিকেতনের এই বর্ণনা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ১৯৮৩-৮৪ সালে আমি যখন নিতান্ত ছেলেবেলায় শান্তিনিকেতনে যেতে শুরু করি, সে সময়ে বা তারপরে সেখানে কোনো…
