শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির আলোচনা ও চর্চা

★★দৃশ্য -১ ★★

ক্লাস ইলেভেন ৷ বখে কাঁঠাল হয়ে যাচ্ছি ৷ যে কোনো বাঁদর ছেলে দেখলেই গল্প করতে ইচ্ছে করে ৷ ঠাকুরঘরে ঢুকতে নারাজ মন ৷ শুধু রামকৃষ্ণের ছবি দেখলে ভালো লাগে ৷ মানুষের মতো দাঁত বের করে কেমন হাসে ৷ তখন থেকে বন্ধু ভাবি লোকটাকে ৷

মতি ফেরাতে বেলুড়মঠে দীক্ষার ব্যবস্থা হল ৷ আমি মজা করতে গেলাম ৷ তবে রে! আমায় দীক্ষা দেওয়া ! দেখি -কে দীক্ষা দেয় আমায়! একবার দেখে আসি –মানুষ মানুষকে দীক্ষা দেওয়ার অহং কোথায় পায় ! কেমন করে এক মানুষ অন্য মানুষের চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবে! জানেন নিশ্চয় -মানুষ সম্বন্ধে আমার সাংঘাতিক আগ্রহ!

★★দৃশ্য – ২ ★★

স্বামী গম্ভীরানন্দ প্রস্তুত দীক্ষা দিতে ৷ আমি উল্টোদিকে মুখ ঘুরিয়ে ৷
— কানে ফানে মন্ত্র গুঁজবেন না আমার ৷ অন্যের কথা আওড়াতে পারব না ৷
–আমি বললাম ৷

গম্ভীরানন্দ হাসলেন —
বাইরে গিয়ে কী বলবি তবে ? মিছে কথা ?

আমি : মিছে বলি না ৷
গম্ভীরানন্দ : সবসময় সত্য বলিস ?
আমি : হ্যাঁ ৷ এই যেমন এখন বলছি — ইলেভেন ক্লাস আমার ৷ তাও আমায় তুই বলছেন ! তুমি বলুন ৷

গম্ভীরানন্দ : আপনি বাইরে গিয়ে মাকে, দাদুকে কী বলবেন ম্যাডাম?

তুই থেকে আপনি !
লজ্জিত হয়ে বললাম —
বলব — রামকৃষ্ণ মনে আছে ৷

গম্ভীরানন্দ : যা পালা তবে ! যার মনে রামকৃষ্ণ –তার কান দরকার নেই ৷ অত ইন্দ্রিয় একসঙ্গে কাজে লাগালে ভুল হয় ৷

চলে যাচ্ছি ৷ পিছন থেকে করুণ আর্তি –


ঠাকুরকে একটুও পছন্দ হয় না রে তোর?

আমি : খুব হয় ৷ রামকৃষ্ণ আমার বন্ধুলোক — আমার জ্ঞানে সেরা দার্শনিক ৷ মন্দিরে রাখবেন না ওঁকে ৷

আবার হাসলেন গম্ভীরানন্দ ৷ উফ ! কোন গুরু কথায় কথায় এত হাসেন! বললেন –কী করবি তবে বন্ধু নিয়ে ?

বললাম –বড় মাঠ দিয়ে দৌড়ব ৷ আকাশে তখন
কালো মেঘে সাদা বক ৷ নিচে সবুজ ঘাস ৷
রামকৃষ্ণ আমার সুন্দর –রামকৃষ্ণ আমার
মানবকল্যাণ ৷ আসি —

গম্ভীরানন্দ ৷৷ মাঝে মাঝে ঠাকুরের গানগুলো গাস
কিন্তু ৷ তোর মা বলেছে তুই নাকি
ভালো গান করিস ৷

আমি ৷৷ আমি গাইব মহারাজ ৷ তবে ধর্মভাবে নয় –
Music খোঁজার জন্য ৷

গম্ভীরানন্দ ৷৷ yes -পৃথিবীর music —

সে বিকেলে গঙ্গার ঘোলাটে জলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম ৷ অনেকদূর অব্দি চোখ বইছিল আমার ৷ মানুষ তাহলে এইভাবে রাজাধিরাজ হয় !

★★দৃশ্য – তিন ★★

মাসখানেক আগে music পেলাম ৷ বেলুড় মঠের কোনো এক মহারাজ মারা গেছেন ৷ তাঁকে গঙ্গাপাড়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাকি সন্ন্যাসীরা ৷ গান বাজছে — আছে দুঃখ -আছে মৃত্যু – এই খাঁটি হিন্দু মঠে গাওয়া হচ্ছে ব্রাহ্ম কবির গান ৷ তাও কী গান ?
আছে দুঃখ -আছে মৃত্যু —

Yes সবার মৃত্যু আছে ৷ ঈশ্বর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব –তাঁরও ৷ মৃত্যু ও জীবন –পৃথিবী জোড়া রামকৃষ্ণের ৷ খিদে -ভরাপেটে ঢেঁকুর সব — সব কটি রামকৃষ্ণের ৷

সারা ভারত ছেয়েছে হনুমান – নয় পুরাণ কোরানের ভালোবাসাবিরোধী চর্চায় ৷ খ্রিস্টান পাঠশালায় বাংলার প্রবেশ নিষেধ ৷ আমরা এ লেখা এঁদের রক্তাক্ত করুক ৷

[লেখকের অন্য রচনা]

Facebook Comments Box

আপনি এই পত্রিকা পড়ছেন জেনে ভাল লাগল।

নতুন লেখা বা ভিডিও সংযোজন, অথবা রবিচক্রের অন্যান্য খবরাখবর সম্পর্কে জানতে, ইমেল নথিভুক্ত করতে পারেন।

We don’t spam! Read our privacy policy for more information.


5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
3 Comments
Oldest
Newest Most Voted
সৌরভ হাওলাদার
সৌরভ হাওলাদার
1 month ago

এই ভেদাভেদ-এর যুগে, শ্রীরামকৃষ্ণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, যিনি সহজেই বলতে পারেন, যত মত তত পথ।

এমনই তো বন্ধু! সবাই যাঁর হাত ধরতে পারেন।

শৌভিক দে
শৌভিক দে
1 month ago

শেষের বর্শা টি যথাস্থানে বিদ্ধ হোক আর আপনার কলম হোক স্বর্ণ ময়।

Nina saha
Nina saha
17 days ago

মনের গহীনে টান দিল।
একেই তো বলে পূজা… ঈশ্বর তো বন্ধুই,আমারও তাই মনে হয়… হে সখা মম হৃদয়ে রহ/ সংসারে সব কাজে ধ্যানে জ্ঞানে হৃদয়ে রহ।এর সংগে ধর্মাচারণ এর কোন সম্পর্ক নেই। রামকৃষ্ণ দেব তো আমারই মতো মানুষ, তাই তো তিনি লোকান্তরিত হওয়ার আগে এত কষ্ট পেয়েছিলেন।
এমন করে আমরা সকলে যদি ভাবতে পারতাম তাহলে ধর্মাচারণ আর ঈশ্বরেবিশ্বাস এই দুই-ই এর পার্থক্য বুঝতে কোন অসুবিধেই হত না।

3
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x